আজকের তারিখঃ | বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গোবর আর কেঁচোতেই ভাগ্য বদল: পাঁচবিবিতে লাভজনক ভার্মি কম্পোস্ট কারখানা শিশু ধর্ষণের মামলার, আসামি গ্রেফতার চকরিয়ায় পুলিশের সাফল্য অস্ত্র তৈরির কারখানা থেকে ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৮২৫ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার ৬ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির পৃথক অভিযানে মাদকসহ আটক ১ সাগরে জোস্না রাত কবি রিতুনুর সরিষাবাড়ীতে জমি নিয়ে বিরোধে হামলা, আহত ৪ ভারত সেবা সংঘের শ্রী শ্রী গনেশ পূজোর শুভ সূচনা করলেন , মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছুটি কাটাতে বেরিয়েছিল তিন বন্ধু , মহানন্দার স্রোতে হারিয়ে গেল ‌ দুই ছাত্র রাত পোহালেই গণেশ পুজো, মার্কেটে ফলের বাজারে আগুন ,অন্যদিকে ক্রেতাদের ভিড় পানিহাটি সি ই এস সি সাব ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারের ট্রান্সফরমার বাস্ট করে আগুন ও ঝুপড়ি পুরে ছাই ১৩ তম বর্ষে পদার্পণ করলো "গণেশ পুজোয়" -২০২৬, পাইকপাড়া নব যুবক সংঘ কালিয়াকৈরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উন্নত সেবার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় ময়মনসিংহ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কালিয়াকৈরে মাদক ও অস্ত্র সহ গ্রেফতার -৬ ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ কর্তৃক সদর উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের চেক বিতরণ নড়াইলের কালিয়ায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে নারীসহ তিনজন আটক অভিযানের নামে ৪০ ভরি স্বর্ণ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, কনস্টেবল প্রত্যাহার কক্সবাজারে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মদ ও ফেন্সিডিল জব্দ উপজেলার কড়িয়া বাজারে বণিক সমিতির নব-নির্বাচিত কমিটির সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা
ad728

কাদা-জলে নাকাল ২ লাখ মানুষ: কটিয়াদীর জালালপুর সড়ক যেন এক মরণফাঁদ!

রিপোর্টারের নাম: আজকের খবর আগামীর স্মৃতি।
  • সংবাদ প্রকাশের তারিখ : Jul 7, 2026 ইং
  • ৭৮১ বার
ছবির ক্যাপশন:

কাদা-জলে নাকাল ২ লাখ মানুষ: কটিয়াদীর জালালপুর সড়ক যেন এক মরণফাঁদ!

এ.এস.এম হামিদ হাসান
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ জালালপুর-লোহাজুরী সড়কটি এখন যেন এই অঞ্চলের মানুষের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন পড়ে থাকা এই সড়কটির বেহাল দশার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অন্তত দুই লাখ মানুষ। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের পিচ-খোয়া উঠে গিয়ে তৈরি হচ্ছে বড় বড় খানাখন্দ, যা জমে থাকা কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। পানির নিচে লুকিয়ে থাকা এসব অদৃশ্য গর্তের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। উল্টে যাচ্ছে সিএনজি, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জালালপুর ও লোহাজুরী ইউনিয়নের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী বিন্নাবাইদ, চরমান্দালিয়া, গোহালবাড়িয়া ও পাইকান এলাকার মানুষের উপজেলা সদরে যোগাযোগের একমাত্র প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। কিন্তু বছরের পর বছর সড়কটির কোনো স্থায়ী সংস্কার করা হয়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাঝে মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু ভাঙা ইট ফেলে জোড়াতালির 'দায়সারা' মেরামত করা হলেও তা কোনো কাজেই আসেনি। বরং ইটগুলো ঠিকমতো রোলিং না করায় এবং অল্প দিনেই সেগুলো সরে যাওয়ায় রাস্তাটি আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগী প্রতিদিন এই সড়কটি ব্যবহার করেন। স্থানীয়দের মতে, সড়কটি এখন বিশেষ করে বয়স্ক, গুরুতর অসুস্থ এবং গর্ভবতী নারীদের জন্য এক আতঙ্কের নাম। ভাঙাচোরা এবং ঝাঁকুনির এই রাস্তায় যাতায়াত করতে গিয়ে অনেক সময় প্রসূতি মায়েরা মাঝপথেই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন।
সড়কের এই কঙ্কালসার অবস্থার কারণে এই রুটে গণপরিবহন চলাচল অর্ধেকের চেয়েও কমে গেছে। লোহাজুরী রুটের অটোরিকশা চালক জামাল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন,
"রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে সপ্তাহে অন্তত দুইবার গাড়ি গ্যারেজে নিয়ে মেরামত করতে হয়। চাকা নষ্ট হয়, বডি ভেঙে যায়। বাধ্য হয়ে একটু বাড়তি ভাড়া চাইলে যাত্রীরা রাগ করেন। সব মিলিয়ে আমরা চালকেরা চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছি।"
পরিবহন সংকটের এই সুযোগে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া আদায়েরও অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। অনেক শিক্ষার্থী বাড়তি ভাড়া দিতে না পেরে কাদা-পানি মাড়িয়ে পায়ে হেঁটেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
কটিয়াদী উপজেলার অন্যতম বৃহৎ পাইকারি সবজি বাজারটি এই সড়কের পাশেই অবস্থিত। এই অঞ্চলের কৃষিপণ্য পরিবহনের মূল ধমনীও এটি। অথচ রাস্তার বেহাল দশার কারণে বাজারে সময়মতো সবজি আনা যাচ্ছে না। কাদা আর জমে থাকা পানির কারণে ঢাকা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বড় বড় পাইকাররা এখন আর এই সড়ক দিয়ে আসতে চাচ্ছেন না। ফলে একদিকে যেমন সবজি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পাইকার না থাকায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অর্থনৈতিকভাবে ধস নামছে গ্রামীণ অর্থনীতিতে।
উপজেলা সদরের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ব্যাংক, চিকিৎসাসেবা এবং প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যাতায়াতের জন্য এই সড়কটির কোনো বিকল্প নেই। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কের এমন অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত এই সড়কটি টেকসইভাবে সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পথচারীরা আর কোনো 'জোড়াতালির সংস্কার' চান না। তারা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে সড়কটির স্থায়ী ও দ্রুত কার্পেটিংয়ের জোর দাবি জানিয়েছেন।

ad728
কমেন্ট বক্স

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
ad300