মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার বুতনী গ্রামের বিশিষ্ট সমাজসেবী, উন্নয়নকর্মী, সাবেক সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য ও সমবায় সংগঠক আসমা বেগম (৮০) আর নেই। তিনি দীর্ঘদিন ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ থাকার পর গত ৩১ জুলাই, শুক্রবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তিনি অসংখ্য গুণগ্রাহী, আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। একই দিন রাত ৮টায় জানাজা শেষে গ্রামের ঐতিহ্যবাহী বুতনী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
আসমা বেগম ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবী ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদী নারী। নিজের স্বার্থের কথা না ভেবে মানুষের বিপদ-আপদে পাশে দাঁড়ানো ছিল তার জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ১৯৮০-এর দশকে পারিবারিক স্বাস্থ্য প্রকল্পে দায়িত্ব পালন করেন। পরে চাকরি ছেড়ে স্থানীয় সরকারে নারীদের সংরক্ষিত আসন চালুর পর প্রথম দিকেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন।
এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন ইউনিসেফের স্বাস্থ্য প্রকল্পে সুনামের সঙ্গে কাজ করেন। সোনালী ব্যাংক ও বিআরডিবি-এর ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন। সমবায় আন্দোলনের সঙ্গেও তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি শিবালয় উপজেলা সমবায় সমিতির পরিচালক এবং মানিকগঞ্জ সেন্ট্রাল সমবায় ব্যাংকের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তার মৃত্যুতে এলাকাবাসী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, আসমা বেগম ছিলেন জনকল্যাণে নিবেদিত একজন সাহসী ও মানবিক মানুষ। সমাজ উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি এলাকাবাসীর কাছে আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।