
চকরিয়ায় পুলিশের সাফল্য অস্ত্র তৈরির কারখানা থেকে ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৮২৫ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার ৬
কক্সবাজার থেকে আলআমিন জেলা প্রতিনিধ
কক্সবাজারের চকরিয়ায় থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৩টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ৮২৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ৫৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলিসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাতে উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নে দুই দফা অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর আসে বদরখালী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের পশ্চিম ছনুয়া পাড়া এলাকায় একটি বসতঘরে একদল দুষ্কৃতকারী ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছে। খবর পেয়ে চকরিয়া থানার একটি চৌকস দল ২ কিলোমিটার দুর্গম পথ পায়ে হেঁটে রাতের অন্ধকারে কৌশলে বাড়িটি ঘেরাও করে।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর সময় রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ৫ জনকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো:
১. রাজিব ওরফে শুটার রাজিব (২৬)
২. নমি উদ্দিন ওরফে নমি ডাকাত (৪০)
৩. জসিম উদ্দিন ওরফে জসু ডাকাত (২৬)
৪. মো. সাগর রানা ওরফে শুটার সাগর (২০)
৫. জহুরা বেগম (৪৫)
এ সময় তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়:
- ১টি দেশীয় তৈরি দোনলা রাইফেল
- ১টি দেশীয় তৈরি একনলা রাইফেল
- ১টি দেশীয় শর্টগান
- ৫৮ রাউন্ড রাইফেলের গুলি
- ৫৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি
- ২ রাউন্ড তাজা শর্টগানের কার্তুজ
- অস্ত্র ও গুলি তৈরির সরঞ্জাম ও ক্লিনিং রড
দ্বিতীয় অভিযানে পুকুর থেকে ৭৬৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে বদরখালী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের হালকাচা পাড়া এলাকায় দ্বিতীয় অভিযান চালানো হয়। রাত ১০টা ১০ মিনিটে সেখান থেকে শহর বানু (৫৫) নামে আরেকজনকে গ্রেফতার করা হয়। তার বসতঘরের পেছনের পুকুরে থাকা সাদা প্লাস্টিকের বস্তা থেকে আরও ৭৬৭ রাউন্ড রাইফেলের গুলি উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে ৮২৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি উদ্ধার করা হলো।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে অস্ত্র ও গুলি তৈরি, কেনাবেচা এবং অন্য ডাকাতদের কাছে ভাড়া দেওয়ার সঙ্গে জড়িত। তারা চকরিয়াসহ আন্তঃজেলা রোড ডাকাতি, মাছের ঘেরে ডাকাতি ও ত্রাস সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি ও হত্যা মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে ও ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে এবং পলাতকদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।