মো. বদরুজ্জামান বিপ্লব
অর্থ আত্মসাতের একটি ঘটনায় নিজের নাম এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নাম জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শাহজালাল সবুজ। তিনি এ ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি করেছেন।
সম্প্রতি দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে শাহজালাল সবুজ বলেন, প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করার লক্ষ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর ব্যক্তিগত সুনাম এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পরিকল্পিতভাবে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তিনি দাবি করেন, আলোচিত অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় তাঁর কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আলোচিত ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ প্রতিষ্ঠানের একক মালিক ও স্বত্বাধিকারী রাজারহাট উপজেলার রফিকুল ইসলাম। প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংক হিসাব, চেক পরিচালনার ক্ষমতা এবং ব্যাংক হিসাবের নমিনি—সবই তাঁর একক নামে নিবন্ধিত রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ২০১৫ সালে একক মালিকানার ট্রেড লাইসেন্সের ভিত্তিতে খোলা হয়। অন্যদিকে, অংশীদারি চুক্তি সম্পাদিত হয় ২০২০ সালে। ফলে ২০১৫ সালের একক মালিকানার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২০২০ সালের অংশীদারি চুক্তিকে একই প্রতিষ্ঠানের পরিচয় হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, ২০২৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রফিকুল ইসলাম ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’-এর নামে ইউনাইটেড ফাইন্যান্স পিএলসি থেকে ৩৫ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। ওই ঋণের জামিনদার হিসেবে তাঁর স্ত্রী রিজিয়া সুলতানা এবং সাক্ষী হিসেবে তাঁর বড় ভাই রাশেদুল ইসলাম ও শ্যালক আতিকুর রহমান স্বাক্ষর করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি যদি প্রকৃতপক্ষে অংশীদারি ভিত্তিক হতো, তাহলে ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে অন্যান্য অংশীদারেরও সম্পৃক্ততা বা স্বাক্ষর থাকার কথা ছিল।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল নেতাকর্মীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তাঁরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
বিবৃতির শেষে শাহজালাল সবুজ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, মিথ্যা তথ্য প্রচারকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার বা শেয়ার না করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানান।
দৈনিক চেতনার কন্ঠ